চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছে। প্রধান দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপ শুরু করায় পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে আগাম জল্পনা-কল্পনা।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উপজেলার পাইন্দং, কাঞ্চননগর, সুন্দরপুর, লেলাং, জাফতনগর, বক্তপুর, সমিতিরহাট, নানুপুর, ধর্মপুর, আবদুল্লাহপুর, রোসাংগিরী ও খিরাম—এই ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় অন্তত ২৭ জনের নাম আলোচনায় এসেছে, যা দিন দিন আরও বাড়ছে। এর পাশাপাশি ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে দলটির একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ১২টি ইউনিয়নে ১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ২টিতে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালালেও এখনও চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেনি।
মনোনয়ন ঘিরে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ তৎপরতা তুঙ্গে। দলের একটি অংশ স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরের সাথে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শ চালাচ্ছেন, আবার অপর একটি অংশ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরীর মাধ্যমে দলীয় সমর্থনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এমপি সরওয়ার আলমগীর জানান, বিগত নির্বাচনে যারা মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, মনোনয়ন মূল্যায়নে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি-ও এই নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকরামুল হক। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াইয়ে নামার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ফটিকছড়ির নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, তারুণ্য ও আঞ্চলিক জনসম্পৃক্ততাই জয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।