হজযাত্রীদের কাছ থেকে কোরবানির টাকা নিয়েও সবার কোরবানি নিশ্চিত না করার অভিযোগে ‘আল মুলতাজিম হজ্জ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’কে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সাথে প্রাক্-নিবন্ধনের টাকা সময়মতো ফেরত না দিয়ে হজযাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগে ‘ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনাল’ নামে আরেকটি এজেন্সিকে সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-৪ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আল মুলতাজিম ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে ১৪ জন হজযাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, এজেন্সিটি ২ হাজার ২০০ হজযাত্রীর কাছ থেকে কোরবানির জন্য জনপ্রতি ৭২০ সৌদি রিয়াল করে সংগ্রহ করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৬৫২ টাকা। তবে নুসুক মাসার পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, তামাত্তু হজে নিবন্ধিত ২ হাজার ৭৭ জন হজযাত্রীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩৫০ জনের কোরবানি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাকি ৭২৭ জনকে ‘রোজাদার’ হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা পরে লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেও তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, নুসুক পোর্টাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে বাকি হজযাত্রীদের কোরবানি নিশ্চিত করেনি এজেন্সিটি। এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী আবাসন, খাবার ও পরিবহনসেবা দিতেও ব্যর্থ হয় তারা।
এসব অনিয়মের কারণে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী এজেন্সিটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জরিমানার অর্থ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে এজেন্সিটির ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাক্-নিবন্ধনের টাকা ফেরত দিতে দেরি করায় ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালকে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। এজেন্সিটির বিরুদ্ধে দুই হজযাত্রী অভিযোগ করেন, তাঁরা ২০২২ সালে হজে যাওয়ার জন্য প্রাক্-নিবন্ধন করেছিলেন। তিন বছর পর তাঁদের নিবন্ধন আর্কাইভ হয়ে গেলে ২০২৬ সালে আবার প্রাক্-নিবন্ধন করেন। পরে আর্থিক সংকটের কারণে হজে যেতে পারবেন না জানিয়ে তাঁরা জমা টাকা ফেরত চান। এজেন্সিটি নিবন্ধন বাতিল করলেও দীর্ঘদিন তাঁদের টাকা ফেরত দেয়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরে টাকা ফেরত পেয়ে ওই দুই হজযাত্রী অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা গুরুতর ভোগান্তির শিকার হন। এ কারণে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী ডিবিএইচ ইন্টারন্যাশনালকে ভবিষ্যতে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।