ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটে বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, এমন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিক হওয়া যাবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিধিনিষেধের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও পড়তে পারেন।
তবে নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ৩১টি দেশের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে ২৯টি দেশের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টনের সময় নতুন নিয়মটি বিবেচনায় নিতে হতে পারে।
ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হয়। এসব বিধি যাত্রীদের পাশাপাশি বিমান সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও বিমান সংস্থাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁরা নির্দেশনাটি পেয়েছেন এবং পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করছেন। তবে তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
অন্যদিকে, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংস্থাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, নির্দেশনা জারির আগের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা, বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এতে ক্যাপ্টেন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার সঙ্গে পরদিন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই ঘটনা দুটি কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও একটির সঙ্গে অন্যটির সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর থাকলে বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কতটা সীমিত হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর নেওয়া পদক্ষেপের ওপর।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।