নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে এক ব্যক্তির হট্টগোল ও অসৌজন্যমূলক আচরণের পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেছেন সফরসঙ্গী লামিয়া মোর্শেদ। তিনি জানিয়েছেন, ড. ইউনূস সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। ওই ঘটনার কোনো প্রভাব তাঁর ওপর পড়েনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ জানান, বিমানবন্দরে ওই ব্যক্তিদের আক্রমণাত্মক আচরণের কয়েক মিনিট আগে ছবিগুলো তুলেছিলেন তিনি। পুরো যাত্রাপথে ড. ইউনূসের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠানো বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান।
পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ আরও বলেন, ওই ব্যক্তিদের আচরণ চরম অমানবিকতা ও নিম্নমানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে এতে ড. ইউনূসের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণ জানতে চাইতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে তাঁকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি সন্ত্রাসী। আপনি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন। কেন এখানে এসেছেন? আমাদের বলুন, কেন এসেছেন?’
এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টাকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি বলেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই ঢাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত চায়।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পুনর্মিলন বা সমঝোতার জন্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত দলটির মধ্যে এখন পর্যন্ত অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি; বরং তারা নানা ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করার পেছনে তাঁর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূস কেন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেটিই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ড. ইউনূস নন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।