মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার-এনজিও একাসাথে কাজ করবে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে। একইভাবে শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার-এনজিও একাসাথে কাজ করবে
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে। একইভাবে শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ককাস গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে।

সেখানে এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো যানবাহনের ব্যবহারও বাড়ছে। এই এলাকার সমস্যা মোকাবেলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা দেখার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা ও হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চান।

তিনি বলেন, একইভাবে শেরপুরসহ যেসব এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেসব এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সাথে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সরকার এ বিষয়ে একযোগে কাজ করতে চায়।

অনুষ্ঠানে ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে একেকটি মানবিক গল্প। পরিবার থেকে দূরে থাকা বাবার পরিশ্রম, ঝুঁকি নেওয়া তরুণের স্বপ্ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিবারের বিনিয়োগের প্রতিফলন ঘটে রেমিট্যান্সে।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ। তবে অভিবাসনের প্রকৃত মানদণ্ড হওয়া উচিত রেমিট্যান্স উপার্জনকারী মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।

এ জন্য নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি অভিবাসীদের সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা, শোষণ থেকে সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন, এমপি। এ সময় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকসহ ককাসের অন্যান্য সদস্য তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ককাসের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি মোকাবেলায় সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা, নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০