দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও ডাক দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর আহ্বান, ‘বেশি বেশি সোলার লাগান, কম-কম বিদেশের ওপর নির্ভর করুন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে (রিফাইনারি) ড্রোন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়া-প্যাসিফিক, আসিয়ান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প জ্বালানির উৎসের দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপনের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজেই বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সরকারের জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এই অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির চাপ কমবে, সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারি অর্থেরও অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা যাবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আর্থিক সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম স্থাপন করলে একদিকে যেমন প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎকে শুধু বিকল্প জ্বালানি হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।
এ সময় ‘বেশি বেশি সোলার লাগান, কম-কম বিদেশের ওপর নির্ভর করুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সভায় মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের কারণে দেশের তরুণ সমাজ ক্রমেই বিপথগামী হচ্ছে। মাদক যদি যুবসমাজকে গ্রাস করে, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আরএমপির বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। সভায় জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।