মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

মক্কায় দুজনের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্য

মক্কায় দুজনের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটকের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ শাস্তি দেন। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।

বিষয়টি নিয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়েছে। তাতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সাথে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।

সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কনস্যুলার সম্পর্ক-বিষয়ক ভিয়েনা সনদে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই পক্ষভুক্ত। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দিরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক।

এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখনও কোনো তথ্য মেলেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০