নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন না দিয়েই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
ওই দিন রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করায় টুটুল চক্রবর্তী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। এ ঘটনায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি। এরপর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এরপর গত ১৬ জুন তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই নোটিশে। কিন্তু এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়।
সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া এবং গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক থাকার কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
টুটুল চক্রবর্তী ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। তিনি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান তিনি।
লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা টুটুল চক্রবর্তী চাকরি জীবনে ডিএমপির ডিসি ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিপিএম পদকও পান। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর টুটুল চক্রবর্তী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।