সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের অন্তত ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। এ জন্য ব্যক্তিগত সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেওয়া নয়; তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধও গড়ে তোলা। জীবনে গতির প্রয়োজন রয়েছে, তবে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন গতি কাম্য নয়। সড়কে শৃঙ্খলা মেনে নিরাপদে চলাচল করাও শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।
কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবহনব্যবস্থা বিশ্লেষক ও রোড সেফটি অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক পার্থ সারথি দাস এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. কামাল উদ্দিন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিংয়ের সঠিক ব্যবহার, ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা এবং গণপরিবহনে যাত্রী হিসেবে করণীয় সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পথচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও আলোচনা করেন।
শিক্ষার্থীদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষিকা শারমীন শাহনাজ।
এ সময় সড়কে চলাচল ও রাস্তা পারাপারের নিয়ম তুলে ধরে বিভিন্ন ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করেন কর্মশালার আয়োজক বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) তন্ময় কুমার ধর। তিনি বলেন, সড়কের নিরাপদ নকশা ও ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন বা আইন প্রয়োগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রত্যেকের দায়িত্ববোধ, সচেতনতা ও মানবিক আচরণ জড়িত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি করা জরুরি। কারণ, আজকের সচেতন শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল চালক, যাত্রী ও পথচারী হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিআরটিএ। ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। কর্মশালায় বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানো গেলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।