চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকায় উম্মে হাবিবা (২১) নামের তিন থেকে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই। এই ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে পাঁচলাইশ থানাধীন কালারপুল এলাকার একটি বাসা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত উম্মে হাবিবা কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. ইদ্রিস রানা এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বাঁশখালীর সাধনপুর এলাকার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। টিউশন ফির টাকা আনা, বোনের গায়ে হলুদের জন্য স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া এবং কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে কাঙ্ক্ষিত উপহার না পাওয়ার জেরে তাকে নানাভাবে চাপ ও মারধর করা হতো। সংসার টিকিয়ে রাখতে হাবিবা এসব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন।
গত ১ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাবিবাকে তার পৈতৃক বাড়ি পেকুয়া থেকে নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনের কালারপুল এলাকার বাসায় নিয়ে আসেন। এর পরদিন গত ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাবিবার বাবাকে ফোন করে তার মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় মরদেহের গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা নির্যাতন চালিয়ে তাকে ও তার অনাগত সন্তানকে হত্যা করেছেন এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযুক্ত স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার বোনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।