ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং পোশাকশিল্প মালিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোয় শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে।
গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে তাঁর পরিবর্তে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা এই মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া কয়েক শ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের বিষয়টি তুলে ধরছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।