মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব ‘প্রবারণা

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এরপর মাসব্যাপী ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে) যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেই ব্যাপারে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো ব্যক্তিগত, জায়গা বা পরিচালনা কমিটি সংক্রান্ত বিরোধকে ধর্মীয় হামলা বলে চালিয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা হয়; যা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও বিশেষ আড়ম্বর নিয়ে উদযাপিত হবে বলে আশা করি।

সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর নিকট সারাদেশের বৌদ্ধ বিহারসমূহের তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, তালিকা পেলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০