মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

প্রথম বিয়ে গোপন স্বামীর, জেনে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা; গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী খালে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামের এক নারী হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা

প্রথম বিয়ে গোপন স্বামীর, জেনে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা; গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী খালে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামের এক নারী হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুলকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটি জব্দ করেছে পিবিআই।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুকুর আহম্মদ (২৪)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুসলিম উদ্দিন গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী থেকে অজ্ঞাত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছিল সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করলে নিহতের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।

ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণে পিবিআই জানায়, রাজা মিয়া তাঁর প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে জান্নাতুলকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে জান্নাতুল বিষয়টি জেনে গেলে দম্পতির মধ্যে প্রতিনিয়ত কলহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ, সহযোগী মুসলিম উদ্দিন ও এক সাম্পানচালক নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। জান্নাতুলকে নৌকায় তুলে তারা শিকলবাহা খালের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান।

নৌকার ভেতরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জান্নাতুলের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর স্বামী রাজা মিয়া স্ত্রীর মুখ চেপে ধরেন এবং রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে মরদেহ বস্তাবন্দি ও হাত-পা বেঁধে কালারপোল এলাকার শিকলবাহা খালে ফেলে গুম করার চেষ্টা চালানো হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয় শুকুর আহম্মদকে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো জানিয়েছে, মামলাটির অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০