রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতাও বন্ধ করতে হবে।
সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় টিআইবি। এতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার মতো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংগঠনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে না পারলে জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন হবে। দলের নেতা-কর্মীদের আচরণের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাবিতে হামলা ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ক্ষয়ের বৃহত্তর চিত্রের অংশ হিসেবে দেখছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি এবং পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো বিভিন্ন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে পদত্যাগের দাবি আদায়ে দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এমনভাবে ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করতে না পারে এবং পুলিশ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হয়, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে, দলীয় শক্তির প্রভাবে নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই অপরাধের সুরক্ষাকবচ হতে পারে না।
টিআইবি আরও বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।