চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাহিনীটি। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা চাকরির আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যান। পরে তাঁদের ইউক্রেনের যুদ্ধে পাঠানো হয়। তবে নিহত ২০ জনের পরিচয়, মৃত্যুর সময় এবং বাকি আটজনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে মৃত্যুর এ হিসাব এসআরবির বক্তব্যের ভিত্তিতেই উঠে এসেছে।
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ এর আগেও বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে প্রতারণা, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দালালরা বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় যেতে উৎসাহিত করতেন। অনেককে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হতো, যার ভাষা তাঁরা বুঝতে পারতেন না। পরে তাঁদের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা হতো।
অনুসন্ধানটির জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রুশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি, পাচারের শিকার হয়ে দেশে ফেরা ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে ওই গবেষণায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগের চিত্র উঠে এলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্যটি এতে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সংস্থা দুটি।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।