মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

রাউজানের কোয়েপাড়ায় শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় ‘বাল্মীকি প্রতিভা’

দস্যু রত্নাকরের ঋষি বাল্মীকিতে রূপান্তর, নিষ্ঠুরতা থেকে মানবিকতায় উত্তরণ আর অন্তরের পরিবর্তনের চিরন্তন বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানের কোয়েপাড়ায় মঞ্চস্থ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতি-নৃত্যনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’। শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে গ

রাউজানের কোয়েপাড়ায় শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় ‘বাল্মীকি প্রতিভা’

দস্যু রত্নাকরের ঋষি বাল্মীকিতে রূপান্তর, নিষ্ঠুরতা থেকে মানবিকতায় উত্তরণ আর অন্তরের পরিবর্তনের চিরন্তন বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামের রাউজানের কোয়েপাড়ায় মঞ্চস্থ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতি-নৃত্যনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’। শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে গত ২১ অক্টোবর কোয়েপাড়া পল্লী সেবা সংঘের মঞ্চে নাটকটি পরিবেশন করে গ্রামের ও শহরে বসবাসরত কোয়েপাড়ার শিশু-কিশোরেরা।

নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে অরণ্য, দস্যুদের কর্মকাণ্ড, দেবী-দেবতার আবির্ভাব, ভয় ও প্রলোভনের পর্বের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় রত্নাকরের জীবন বদলে যাওয়ার কাহিনি। মানুষের অন্তরে সৌন্দর্য, মমতা ও সৃষ্টিশীলতার জাগরণ যে সম্ভব, সেই উপলব্ধিই নাটকের মূল সুর। বিজয়া দশমীর দিনে পরিবেশনাটি অশুভের বিনাশের পাশাপাশি নিজের ভেতরের অন্ধকার দূর করার বার্তাও তুলে ধরে।

নাটকটির মূল পরিকল্পনা ও সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন শোভন সেন গুপ্ত। পরিচালনা করেন অসিত নন্দী। বাল্মীকির চরিত্রে অভিনয় করেন উজ্জ্বল তালুকদার। বালিকার চরিত্রে আদৃতা নন্দী, মা কালীর ভূমিকায় বৃন্দা দে, মা সরস্বতীর ভূমিকায় বর্ষা ঘোষ এবং মা লক্ষ্মীর ভূমিকায় তিলোত্তমা সেনগুপ্ত অভিনয় করেন। দস্যু সর্দারের চরিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে ছিলেন ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য।

দস্যু ও শিকারী দলের সদস্য হিসেবে অভিনয় করেন স্বাগত, সৌম্য, শাশ্বত, সৌম্যদীপ, ইন্দ্রনীল, শ্রাবণ, দিব্য, দুর্জয়, শান্তনু ও অরিন্দম। ছোট পাখির চরিত্রে ছিল সৃজা, আরোহী, হৃদিতা ও সপ্তর্ষি। হরিণশাবকের ভূমিকায় অংশ নেয় প্রিজয় ও অনুপম।

পল্লীকন্যার চরিত্রে অভিনয় করে নীলাদ্রি, তৃষাম, আনুষ্কা, অনন্যা, সায়ন্তিকা, আদ্রিকা, পুষ্পা ও অন্বি। বনদেবীর ভূমিকায় ছিল পৌষালী, আবৃতি, প্রথা, মাত্রা, মিঠি, মুনা, সুকন্যা, শ্রুতি, বৈশাখী ও জয়শ্রী। গ্রামবাসীর চরিত্রে অভিনয় করেন সুমি বৈদ্য, সোমা বিশ্বাস, প্রীতি দেব ও মনিকা দাশ গুপ্ত। ব্রাহ্মণ দম্পতির ভূমিকায় ছিলেন পিকলু চক্রবর্তী ও শুকলা আচার্য।

নাটকের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন বর্ষা ঘোষ, তিলোত্তমা সেনগুপ্ত ও সুমি বৈদ্য। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাধন দেব, রূপক বিশ্বাস, সনজিত নন্দী, রাসেল দেব, সৌমেন দেব, সৌরভ দেবরায়, শুকলা আচার্য, শিবানী চক্রবর্তী, মুক্তা তালুকদার, সংগীতা বিশ্বাস, প্রবীর দে, রবি বিশ্বাস, জুয়েল দেবরায়, জয় চৌধুরী ও আদর চক্রবর্তী। ভিডিওগ্রাফি ও ধারাবর্ণনায় ছিলেন শুভার্থী সেনগুপ্ত।

কোয়েপাড়ার শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত শিশু-কিশোরদের নিয়ে এ আয়োজন রবীন্দ্রসাহিত্যের চর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরির একটি প্রয়াস। সম্মিলিত অংশগ্রহণ, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর বিদায়ের আবহে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় মানুষের হৃদয় পরিবর্তন এবং মানবিকতার জয়গান।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০