রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছর কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক চালুর কার্যক্রমও শুরু হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সাথে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানান, রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে বৈঠকে রোসাটমের মহাপরিচালক আরও জানান, আগামী বছর থেকেই রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং এবং প্রাথমিক কার্যক্রম চালুর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবনা তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এই মেগাপ্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ একা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া রূপপুর প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের পারমাণবিক শক্তি খাতের আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত পোষণ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে এই পারমাণবিক খাতে দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।