সাইবার বুলিং প্রতিরোধে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা। তিনি বলেন, সাইবার হয়রানির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থার সহযোগিতা চাইলেও অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকায় ‘বাংলাদেশে অধিকার-সম্মানজনক ডিজিটাল শাসন’ বিষয়ক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিরাক-বাংলাদেশের উদ্যোগে ডিডিআই সাউথ এশিয়া ও অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাবের সহযোগিতায় ‘পলিসি ডায়ালগ অন রাইটস-রেসপেক্টিং ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
শিরিন সুলতানা জানান, বিরোধী দলে থাকার সময় এবং বর্তমান সরকারের আমলেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
তখন তাদের একজন প্রথমে ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বলেন। কিন্তু পরে তিনি জানান, গুগল ও ফেসবুকের কাছে কোনো কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ পাঠালেও অনেক সময় সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় না। এমনকি তার বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং করা ব্যক্তির অনুসারী বেশি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে অনাগ্রহী।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধির সাথে নাগরিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধার পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি সাইবার নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন।
নিরাপদ, অধিকারসম্মত ও জবাবদিহিমূলক ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি খাত ও তরুণদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে অন্যান্য বক্তারা বলেন, একজন নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। তবে এ স্বাধীনতার চর্চা যেন অন্যের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষতির কারণ না হয়, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল মতপ্রকাশ, তথ্যের যথার্থতা এবং অন্যের অধিকার ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
সংলাপে সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় না। এতে পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কোনো ঘটনা সম্পর্কে একপাক্ষিক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সংলাপে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান এবং গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনসহ নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিরাক-বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান আকন্দ। নিরাপদ ও অধিকারসম্মত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নাগরিকের সুরক্ষা, তরুণদের অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. সেলিম।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।