চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলীয় সাগরসীমায় মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে ৭ টন ইলিশসহ চারটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও বোট জব্দ করেছে প্রশাসন। একই সাথে অনধিকার মাছ শিকারের অপরাধে বোট মালিক ও জেলেদের ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তীতে জব্দকৃত সাত টন ইলিশ উপজেলার ২৫টি এতিমখানায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড অংশে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব ইলিশ ও মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি সুসজ্জিত দল।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত টানা ২২ দিন বহাল থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে সারা দেশে ইলিশ ধরা, কেনাবেচা, পরিবহন ও মজুদের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
অভিযান পরিচালনা শেষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাছিম বিল্লাহ জানান, মা ইলিশের ডিম ছাড়ার এ প্রজনন মৌসুমে প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখতে সীতাকুণ্ড সাগরে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে কোনোভাবেই অবৈধ উপায়ে মাছ শিকার করতে দেওয়া হবে না। সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে থাকবে।
অভিযান পরিচালনাকালে কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার ইকবাল পিও-র নেতৃত্বে কোস্টগার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা (পিআরএল) মো. আবুল কালাম আজাদ, ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. রাশেদ আহমেদসহ মৎস্য কার্যালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযানে অংশ নেন।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।