মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন অধ্যাদেশ

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। এতে সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ ও যন্ত্রাংশ চুরি, যন্ত্রপাতি নষ্ট করা এবং অবৈধ সংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের জ

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন অধ্যাদেশ

দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। এতে সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ ও যন্ত্রাংশ চুরি, যন্ত্রপাতি নষ্ট করা এবং অবৈধ সংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এর আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে, সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে দেশ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তা স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারি ভবন, বাসাবাড়ি ও পতিত জমিসহ বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ থাকবে। এ খাতে বিনিয়োগের জন্য অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স)—দুই ধরনের মডেল রাখা হয়েছে।

ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা ধরে রাখতে পারবে।

অধ্যাদেশে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি এবং জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান এবং ভাসমান ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও থাকবে। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত হবে না।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনায় গ্রাহক, সার্ভিস প্রোভাইডার ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করার বিধান রাখা হয়েছে। চুক্তিতে যন্ত্রপাতির মান ও নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বণ্টন, বিল পরিশোধ, মালিকানা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় নেট-মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক নিজের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য পাওয়ার সুযোগও থাকবে।

অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ক্যাপেক্স মডেলের আওতায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-জিপি বাধ্যতামূলক হবে না।

সৌরবিদ্যুতের বিস্তার এবং এ খাতের নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।

অধ্যাদেশের ১২ থেকে ১৬ ধারায় সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ ও যন্ত্রাংশ চুরি, যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন, অবৈধ সংযোগ স্থাপন, সংশ্লিষ্ট কাজে বাধা দেওয়া এবং অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা দেওয়ার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। চোরাই যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি করা বা নিজের হেফাজতে রাখলেও একই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া অবৈধ সংযোগ স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এসব অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। কোনো অপরাধ ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতেও বিচার করা যাবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০