মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ মৃত্যু, মব সহিংসতায় প্রাণ গেল ৫৪ জনের

দেশে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮৩টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।

তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ মৃত্যু, মব সহিংসতায় প্রাণ গেল ৫৪ জনের
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮৩টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং দলটির সাথে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬৯টি ঘটনায় অন্তত ৫৪০ জন আহত ও ৯ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৩১টি সংঘর্ষে ৩৩৮ জন আহত এবং দুজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৬টি সংঘর্ষে ৮১ জন আহত ও দুজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭০ জন।

এ ছাড়া বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৩১টি সংঘর্ষে ৬৯ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও ১৯টি সংঘর্ষে ১২৬ জন আহত এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮৩টি ঘটনার মধ্যে ১৬১টি, অর্থাৎ ৮৮ শতাংশ, ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের কারণে। নিহত ১৭ জনের মধ্যে বিএনপির ৯ জন, জামায়াতের দুজন, আওয়ামী লীগের তিনজন এবং অন্যান্য দলের তিনজন রয়েছেন।

এদিকে, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ২৩টি ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১০ জন আহত ও ১৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত ৫৪

গত তিন মাসে সারা দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ১৩৭টি ঘটনা ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক্‌বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫৪ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন মাসে নির্যাতনের শিকার ৭৮৩ নারী ও কন্যাশিশু

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ৭৮৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকারদের ১৫৪ জন, অর্থাৎ ৬১ শতাংশ, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী।

এ সময়ে ৪২ জন নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা মোট ধর্ষণের ঘটনার ১৭ শতাংশ। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন। ধর্ষণের পর নিহত ও আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন।

নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ১৩৫ সাংবাদিক

প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত তিন মাসে অন্তত ৮৮টি ঘটনায় ১৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এসব ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, ২৭ জন লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং ১৮ জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে নয়জন সাংবাদিককে আটক করা হয়। পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইনে করা চারটি মামলায় ১৮ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন মাসে কারাগারে ৩৭ আসামির মৃত্যু

কারাগার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত ও নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৩৭ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন কয়েদি এবং ২৩ জন হাজতি। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের পাঁচজন এবং সাধারণ কয়েদি ৩২ জন।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন হেফাজতে এবং একজন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে আটক এড়াতে পালানোর সময় খালে পড়ে একজন, বহুতল ভবন থেকে পড়ে দুজন এবং পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ অটোরিকশা জব্দ করায় মানসিকভাবে অসুস্থ এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ছয়টি হামলা

গত তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে দুটি মন্দির, পাঁচটি প্রতিমা ও চারটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৮৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার ৩০২ মরদেহ

গত তিন মাসে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ২৮৫টি ঘটনায় মোট ৩০২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২৯টি ছিল বস্তাবন্দি অবস্থায় এবং ৬৭টি ঝুলন্ত অবস্থায়। ৪৩টি মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গলা কাটা অবস্থায় ১৯টি এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১২৫টি মরদেহ অন্যান্য পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে।

শ্রমিক নির্যাতনের ২৫১ ঘটনায় নিহত ৭১

শ্রমিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে শ্রমিক নির্যাতনের ২৫১টি ঘটনায় ৭১ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরবরাহ করা তথ্যে এ অংশের পরবর্তী বিবরণ অসম্পূর্ণ থাকায় বাকি তথ্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০