মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

‘তিনি কীভাবে খুলশীর ওসি হলেন?’ চসিক মেয়রের প্রশ্নের কয়েক ঘণ্টার পর বদলি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার পর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে পুলিশ বলছে, এটি নিয়মিত বদলি।

‘তিনি কীভাবে খুলশীর ওসি হলেন?’ চসিক মেয়রের প্রশ্নের কয়েক ঘণ্টার পর বদলি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার পর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে পুলিশ বলছে, এটি নিয়মিত বদলি।

বুধবার বন্দরনগরীর ঈদগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু সচেতনতামূলক এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেয়র শাহাদাত।

মেয়র বলেন, আবদুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। এখন তিনি কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, খুলশী থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রহিম আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের কাউকে গ্রেপ্তার করেননি।

এর আগের রাতে নগরীর মতিঝর্ণা এলাকায় চসিক ভবনের আশপাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের দাবি, একটি অভিযানের অংশ হিসেবে তারা সেখানে গিয়েছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা ওই ভবনে অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে যায়।

ওয়াকিলকে পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হামলা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে ১৭টি মামলা রয়েছে। সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ তাকে খুলশীর কিশোর গ্যাংগুলোর একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেও বর্ণনা করেছে।

তবে মেয়র শাহাদাত ওয়াকিলের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে ওয়াকিল তার সাথে চলে গেছেন, তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। আর তা প্রমাণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মেয়র আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওয়াকিল বিভিন্ন মামলার শিকার হয়েছেন এবং তিনি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, ওয়াকিল একজন ‘জুলাইযোদ্ধা’। মেয়রের দাবি, ওয়াকিলের দুই ভাই ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১৬ বছর বয়সী হৃদয়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়েও ওসি রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মেয়র। পুলিশের ভাষ্য, নিহত হৃদয় এবং ওই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওয়াকিলের অনুসারী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মেয়রের অভিযোগ, হৃদয় হত্যা মামলার এক আসামি কামরুলকে মারধর করে ওয়াকিলের নাম বলতে বাধ্য করেছেন ওসি রহিম। একই সাথে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রহিম এখন খুলশী এলাকায় যুবদল ও ছাত্রদলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছেন।

আসন্ন চসিক নির্বাচনকে ঘিরে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মেয়র। তার দাবি, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং এর সাথে ওসি জড়িত।

মেয়রের এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে বদলি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, আবদুর রহিমকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (সিটিএসবি) সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে মেয়রের বক্তব্যের কারণে বদলি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়মিত বদলি। মেয়র কী বলেছেন, তা তিনি শোনেননি।

মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আবদুর রহিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে আগের রাতের পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুলিশ একটি অভিযানের জন্য চসিক কার্যালয়ের কাছের মতিঝর্ণা এলাকায় গিয়েছিল। তবে বিশেষভাবে ওয়াকিল বা অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযানটি পরিচালিত হয়নি।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০