মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

ভল্ট থেকে সাড়ে ৪ কোটি লোপাট, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকার বান্ডেলে অভিনব কায়দায় ১ হাজার টাকার নোটে মুড়িয়ে ভেতরে ১০০ টাকার নোট রেখে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আত্ম

ভল্ট থেকে সাড়ে ৪ কোটি লোপাট, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকার বান্ডেলে অভিনব কায়দায় ১ হাজার টাকার নোটে মুড়িয়ে ভেতরে ১০০ টাকার নোট রেখে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আত্মসাৎকৃত এই অর্থ দিয়ে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে তারা একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছিলেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপ-পরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখার তৎকালীন সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তার সহযোগী ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগোচরে ভল্ট থেকে নগদ টাকা সরাতে থাকেন। অডিট বা ক্যাশ মিলানোর সময় জালিয়াতি গোপন রাখতে তিনি এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করেন। ১ হাজার টাকার বড় বান্ডেলের পেছনের ও সামনের দিকে আসল নোট রেখে মাঝখানে কৌশলে ১০০ বা ছোট মানের নোট ঢুকিয়ে রাখতেন। ফলে দূর থেকে বা ওপর থেকে বান্ডেলগুলো সঠিক মনে হলেও ভেতরে ছিল বিশাল অঙ্কের ঘাটতি।

গত ৯ আগস্ট দৈনিক লেনদেন শেষে ভল্ট মিলানোর সময় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার এই গরমিল ধরা পড়ে। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল স্বীকার করেন যে, ভল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা যায়, ব্যাংকের লোপাট করা এই অর্থ দিয়ে দুই আসামি মিলে যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি বিশাল গরুর খামার গড়ে তোলেন, যেখানে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। গত বছরের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ভল্ট থেকে এই টাকা সরান কামরুল। ঘটনার পরপরই গত ১০ আগস্ট তাদের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টি দুদক তফসিলভুক্ত হওয়ায় প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন করে এই মামলা রেকর্ড করা হয়।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০