মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

'বহুপাক্ষিকতাবাদ এখন আর বিকল্প নয়, অপরিহার্য'

‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিকতাবাদ কেবল কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা’ বলে মন্তব্য করেছন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

'বহুপাক্ষিকতাবাদ এখন আর বিকল্প নয়, অপরিহার্য'

‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিকতাবাদ কেবল কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা’ বলে মন্তব্য করেছন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বাণীতে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ দিবস বিশ্ব সংস্থার সনদের দীর্ঘস্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও বৈষম্যের এ সময়ে সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বহুপাক্ষিকতার প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে বাণীতে বলা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচন বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে। 

টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, জেন্ডার সমতা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বিস্তৃত বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাণীতে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে উন্নয়নশীল দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর জাতিসংঘ গঠনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও সবার স্বার্থে কাজ করার উপযোগী করে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসাথে বৈশ্বিক আস্থার সংকট দূর করা, দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০