মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতীয়

সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি ওলামা-মাশায়েখদের

২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকার

সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি ওলামা-মাশায়েখদের
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। পাশাপাশি, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড শব্জবাড়ি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে আয়োজিত সভায় ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় আলেম ও ধর্মীয় মুরুব্বিরা অংশ নেন।

সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহলের পক্ষ থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সাদপন্থীদের আগামী ইজতেমার জন্য তিন দিন টঙ্গীর ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া আলেম ও মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম দাবিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় জানানো হয়, মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

এদিকে, সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদরাসা, মারকাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজন করতে আলেম ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০