মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

লন্ডনে সাইফুজ্জামানের ভাইয়ের ১৫০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের ফ্ল্যাটটির অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় যুক্তরাজ্যে

লন্ডনে সাইফুজ্জামানের ভাইয়ের ১৫০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের ফ্ল্যাটটির অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত ফ্ল্যাটটি ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ডে কেনা হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি। তবে সম্পত্তিটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার অভিযোগ, ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অর্থ পাচার ও অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনার সন্দেহে তদন্তের অংশ হিসেবে এটি জব্দ রাখার আবেদন করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্ল্যাটটির মালিকানার সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নামমাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে অন্য পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষিত মোট মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৯৫ লাখ পাউন্ড।

আদালত মনে করেন, সম্পত্তিটি অপরাধলব্ধ অর্থে কেনা হয়ে থাকতে পারে—এমন সন্দেহের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। ফলে ফ্ল্যাটটি বিক্রি কিংবা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে আদালতের এ আদেশকে সম্পত্তির চূড়ান্ত বাজেয়াপ্তকরণ হিসেবে দেখা যাবে না; আপাতত এটি জব্দ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আনিসুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। সম্পত্তির মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে এর আগে বিভিন্ন তদন্ত ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সম্পত্তি নিয়েও তদন্ত চলছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০