চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পাহাড় কেটে এবং খালের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ছয়জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে লোহাগাড়া থানায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এই মামলা রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া গ্রামের উলুবনিয়া এলাকায় চাপোড়া খাল এবং এর পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ও বন বিভাগ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো শ্যালো মেশিন, একটি লোহার পাম্প ও দুটি সাকশন পাইপ জব্দ করা হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— সরওয়ার কামাল (৪২), হুবায়ের (৩৬), মো. জিয়াবুল (৪২), ভুট্টো (৩৭), মো. রাকিব (২৫) ও মো. শফিক (৩০)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নেই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সরওয়ার কামালের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে চাপোড়া খাল ও সংলগ্ন পাহাড় থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে আসছিল। এর ফলে পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আসামিরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের হাঙর বন বিটে ‘সুফল’ প্রকল্পের আওতায় সৃজিত বাগানের ভেতর দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিলেন। সেই রাস্তা দিয়েই উত্তোলিত বালু পাচার করা হতো। এর আগে বন বিভাগ কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ করে দিলেও প্রভাবশালী চক্রটি তা বারবার পুনরায় চালু করে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, পরিবেশ ও বনভূমি ধ্বংসকারী অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়েরের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে এমন যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।