চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় যোগদানের মাত্র তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহকে। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের চরম হয়রানি, নির্ধারিত ফির বাইরে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ টিলা কাটা ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখেমঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে তাঁর এই বদলির আদেশ আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, উপজেলা ভূমি অফিসে খাজনা, খারিজ বা অন্যান্য সেবার জন্য গিয়ে নিয়মিতই কর্মকর্তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অযাচিত হয়রানি করতেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী লোকমান চৌধুরী জানান, তিনি ভূমি অফিসের দায়িত্বশীলদের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমনকি বাবুনগর এলাকার ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বারবার ধর্না দিয়েও তাঁর সম্পত্তির দীর্ঘদিনের নামজারি ও রেকর্ডসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ফটিকছড়িতে দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করা টিলা কাটা ও অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধে এসি ল্যান্ডের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি গত ২৯ অক্টোবর উপজেলার সুয়াবিলের শোভনছড়িতে এক অসহায় বিধবার বসতবাড়ির আঙিনা কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর ঘটনাস্থলে যান। এর আগে ভূমি কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ স্থানটি পরিদর্শন করলেও আইনানুগ পদক্ষেপ না নেওয়ায় মাটি কাটা অব্যাহত ছিল; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
টিলা কাটার বিষয়ে ভূমি প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে বিতর্কের পারদ আরও একধাপ চড়ে গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। গত ১৯ অক্টোবর পাইন্দং এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিলা কাটার অপরাধে ইরতিসাম কালাম ইরসাল নামের এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন এসি ল্যান্ড রহমত উল্লাহ। তবে জরিমানার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তির পিতা মোহাম্মদ শওকত ‘প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করা হয়েছে’ দাবি করে পুনরায় সেখানে টিলা কাটা শুরু করেন। এ নিয়ে এসি ল্যান্ড নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও জনমনে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
ভূমি অফিসের নানা অনিয়ম, সেবা পেতে দুর্নীতি এবং টিলা খেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত রহমত উল্লাহর বদলির আদেশ এল। যোগদানের এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিস্তারিত কোনো প্রশাসনিক কারণ না জানিয়ে এটিকে সরকারি চাকরির ‘ধারাবাহিক বদলি প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।