মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে এলপিজির বাজারে কঠোর নজরদারি, চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত

চট্টগ্রামে এলপিজির বাজারে কঠোর নজরদারি, চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে নজরদারি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পৌঁছে দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক জানান, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। এসব প্ল্যান্টে কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং কোথায় কতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে একটি তদারকি কমিটিও গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির মাধ্যমে আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণ খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, সে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ চলছে, যাতে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে গ্যাস আটকে রেখে সংকট তৈরি কিংবা বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে।

এদিকে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। নতুন দাম কার্যকরের পর ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে।

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কিছু ডিলার কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ না থাকলেও বাজার তদারকি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজি সরবরাহে সাম্প্রতিক জটিলতার কারণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও চট্টগ্রামের বাজারে যাতে কেউ এর সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও মূল্য কারসাজি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও তদারকি চলবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০