চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে মো. বেলাল (২৭) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, যৌন হয়রানি, সম্পত্তি দখল ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৮ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাজামাটিয়া এলাকায় বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে হামলা চালান বেলাল ও তার সহযোগীরা। এ সময় ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি এক লাখ টাকা ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে সিআর ২৭০২/২০২৬ (ফটিকছড়ি) নম্বরের মামলাটি করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সেলিম (৫১)।
মামলায় বেলালকে প্রধান আসামি করে আবুল কাসেম, মো. মিনহাজ, মো. ইমতিয়াজ ওরফে সজল, মো. মুমিন ও মো. সাইফুলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে ‘ডিজে বেলাল’ নামে পরিচিত হলেও এক মাদ্রাসাশিক্ষককে জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর হত্যার অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের পর থেকে তিনি এলাকায় ‘কুত্তা বেলাল’ নামে পরিচিতি পান।
এছাড়া এক নারী তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। ফটিকছড়ি ক্লাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি এক মসজিদের খতিবকে ভয় দেখিয়ে ১৩ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছিলেন তিনি, যার প্রতিবাদে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ফটিকছড়ি প্রেস ক্লাব।
ফটিকছড়ির স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, বেলাল পেশাদার সাংবাদিক নন, কেবল একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে নিজেকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করতেন তিনি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বেলাল। নিজেকে 'দৈনিক প্রভাত' পত্রিকার ফটিকছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি দাবি করে তিনি জানান, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বানিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
পেশাদার সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি রক্ষায় অপসাংবাদিকতা বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।