মূল লেখায় যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

রাউজানে পিস্তল হাতে হুমকির ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় আতঙ্ক: অভিযানে পুলিশ

চট্টগ্রামের রাউজানে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে দেওয়া এক হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই জড়িত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

রাউজানে পিস্তল হাতে হুমকির ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় আতঙ্ক: অভিযানে পুলিশ

চট্টগ্রামের রাউজানে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে দেওয়া এক হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই জড়িত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আধিপত্য বিস্তারের জেরে ‘বুলেট’ খ্যাত এক সন্ত্রাসী ও তাঁর সাবেক সহযোগীর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই এই অস্ত্রের মহড়া এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র টেবিলের ওপর সাজিয়ে রেখে নেপথ্যে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষকে চরম পরিণতির হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুমকির এই কণ্ঠটি রাউজানের ১৪ নম্বর বাগোয়ান ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে বুলেটের। ভিডিওতে দেখা দেওয়া মোট সাতটি পিস্তলের মধ্যে কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় এবং কয়েকটি খেলনা পিস্তল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার নেপথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, হৃদয় হোসেন শাওন এবং একই এলাকার আরাফাত মামুন নামে দুই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত মাসে হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মামুন মারধর করার পর তাঁদের সম্পর্কে ভাঙন ধরে এবং তাঁরা একে অপরের চরম শত্রুতে পরিণত হয়। বিরোধের জের ধরে মামুনের অনুসারীরা ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে হৃদয়ের ধারণকৃত ওই পুরোনো ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়, যাতে হৃদয়কে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত হৃদয় ও মামুন উভয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা পুলিশ হাতে গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। জামিনে বের হওয়ার পর থেকে রাউজান অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি মূলত ২০২৩ সালের শেষের দিকের। বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র এনে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হৃদয় ভিডিওটি ধারণ করে নিজের মোবাইলে রেখে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে মামুন ভিডিওটি ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুণ্ঠিত কোনো অস্ত্র ছিল না এবং এর আগেই অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের পুনরায় গ্রেপ্তারে রাউজান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০