মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ · ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
প্রিয় চট্টগ্রাম

কর্ণফুলীর পাড়ে অনুমোদনহীন ইটভাটার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুরে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা। নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই সেখানে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এদ

কর্ণফুলীর পাড়ে অনুমোদনহীন ইটভাটার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ
সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুরে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা। নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই সেখানে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে ইটভাটাটি নির্মাণে নদীর পাড়ের মাটি কাটারও অভিযোগ উঠেছে।

ইটভাটাটি চালু হলে এর ধোঁয়া ও বর্জ্যে কর্ণফুলী নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরখিজিরপুর এলাকায় নদীর পাড় ঘেঁষে ইটভাটাটির নির্মাণকাজ চলছে। দুই শতাধিক শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। ইট তৈরির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি এনে ভাটার জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্জ্য ও ইটের আধলা ফেলে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। শ্রমিকদের থাকার জন্য পাশেই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কাছাকাছি রয়েছে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে কর্ণফুলী নদী দূষিত হচ্ছে। ভাটার বর্জ্য, ইটের আধলা ও মাটি ফেলে নদীর পাড় ভরাট করে দখল করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে নদীর অন্য পাড়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং বনভূমি ও বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব বলেন, ইটভাটাটির অনুমোদন নেই বলে তাঁরা জানেন। বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠিও দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, ইটভাটাটি চালু হলে এলাকার বায়ুর মান খারাপ হবে এবং বর্জ্য ও দূষণে নদীর পানিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি আশপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইটভাটার পাশে থাকা একটি লবণ কারখানার উৎপাদিত লবণের গুণগত মানও দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের উৎপাদন কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জানে আলম বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি ২৬ বছরের পুরোনো। মাঝে তিন বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। তখন প্রশাসন ইটভাটাটি ভেঙে দিয়েছিল। সে সময় চিমনির উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট, এখন তা ৫০ ফুট করা হয়েছে। নতুন করে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ইট পোড়ানো শুরু হবে। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হবে, কাঠ ব্যবহার করা হবে না। প্রতি মাসে সাত থেকে আট লাখ ইট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ইট ১২ টাকা করে বিক্রি হবে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চরখিজিরপুর এলাকায় নদীর পাড়ে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের কোনো অনুমোদন নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইটভাটাটি বন্ধ করা হবে। অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রমের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

ইটভাটার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান বলেন, তাঁদের ছাড়পত্র নেই। তবে ছাড়পত্র বা অনুমোদন নিয়ে ইটভাটা ও এর কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

বোয়ালখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিস ফাতেমা বলেন, বোয়ালখালীতে মাত্র একটি ইটভাটার অনুমোদন রয়েছে। বাকি ইটভাটাগুলোর অনুমোদন নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করতে এলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০