টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনার দুই দিন পর গণমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তাঁর দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিক্ষককে মারধর করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনও মারধরে যোগ দেন বলে জানান তিনি।
শাহজালাল রুমি বলেন, মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখানে এলে তিনি সরাসরি জানতে চান, আসলে কী ঘটেছে। এ সময় শিক্ষক তাঁর মেয়েকে জোরাজুরি করা ও চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন রুমি। বিষয়টি শোনার পর একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেও জানান।
শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি প্রিন্সিপালের কক্ষের বাইরে প্রায় ১৫ মিনিট বসে ছিলাম। এরপর ওই শিক্ষক এলে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, ভাই, আপনি আসলে কী করেছেন, আমাকে একবার বলেন। তিনি যখন বলেন যে, তিনি জোরাজুরি করেছেন এবং আমার মেয়েকে চুমু দিয়েছেন, তখন ওই মুহূর্তে একজন অভিভাবক হিসেবে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এরপরের ঘটনা তো আপনারা দেখেছেন।’
মামলা ও অর্থ লুটের অভিযোগ অস্বীকার
এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাহজালাল রুমি দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত।
অর্থ লুটের অভিযোগের বিষয়ে রুমি বলেন, ‘১৭ লাখ টাকা কি আমি পকেটে করে নিয়ে গেছি? সিসিটিভি ফুটেজ আছে, দেখাক। আমি যদি ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে তা সিসিটিভি ফুটেজে দেখাক।’
ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি একটি কাচে হাত রেখেছিলেন, আর তাতেই সেটি ভেঙে যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাচটির পুরুত্ব সম্ভবত তিন মিলিমিটার ছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার আগে বাসায় যাওয়ার দাবি
শাহজালাল রুমির আরও দাবি, শিক্ষককে মারধরের ঘটনার দুই দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি বার্তার কথাও উল্লেখ করেন।
রুমির ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির মাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে জানান, তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান এবং বাসার সামনে অবস্থান করছেন। পরে রাস্তায় শিশুটির নানার সঙ্গে দেখা হলে ওই শিক্ষক আর কখনো এ ধরনের কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
শাহজালাল রুমি বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে সে বাচ্চার মাকে মেসেজ দিয়ে জানায়, “আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমি আপনার বাসার সামনে আছি।” এরপর সে রাস্তায় বাচ্চার নানার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বলে, “আমি এ ধরনের কাজ আর কখনো করব না।”’
সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা। তাঁর মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ছয় বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে-এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।