মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সারাদেশ

রুমিন ফারহানা ও ওসির বাগ্বিতণ্ডা, থানায় পুলিশের জিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রুমিন ফারহানা ও ওসির বাগ্বিতণ্ডা, থানায় পুলিশের জিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় জিডিটি করা হয়। তবে বিষয়টি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর জানাজানি হয়। জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ওই দিন সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ওসির ভূমিকা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন একাধিকবার ফোন করলেও ওসি সাড়া দেননি। এমনকি তাঁদের ফোনও ধরেননি তিনি। এ ছাড়া নিরাপত্তা চেয়েও সংসদ সদস্য প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেছেন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা।

এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা। তিনি সরাসরি ওসির কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সময় দুই পক্ষের কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া তিনটি ভিডিওর মধ্যে একটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড, দ্বিতীয়টির ৫৭ সেকেন্ড এবং তৃতীয়টির ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। ভিডিওগুলোতে সংসদ সদস্য ও ওসির মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন। এ সময় অভিযোগগুলোর একটি তালিকাও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য, তালিকাটিতে দুই পৃষ্ঠাজুড়ে বিভিন্ন তারিখে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে ওসি কোনো মন্তব্য করেননি এবং সন্তোষজনক জবাবও দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও থানায় বাগ্‌বিতণ্ডার পর পুলিশের জিডি, সংসদ সদস্যের সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে জিডিতে কী উল্লেখ করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য

এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মতামত লিখুন

০/২০০০