কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি দিতে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের তিনটি জেলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি ৬৩টি জেলাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা কমানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং জটিলতার কারণে অনেক সাধারণ কৃষক সুবিধা পান না, তাই প্রয়োজন হলে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের মোবাইল ওয়ালেটে ধানের অর্থ পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রধান অঙ্গীকারগুলোর একটি হলো কৃষকের ধান-চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
খাদ্যশস্যের মজুত ও মান বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানিকৃত বা সংগৃহীত চাল ও গমের গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনো খাদ্যশস্য সরকারি গুদামে গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি সরকারি খাদ্যশস্য খোলাবাজারে বা উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের সময় প্রতি প্যাকেটে নির্ধারিত সরকারি সিল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশ দেন তিনি, যাতে কোনো অনিয়ম হলে দায়ীদের সহজে শনাক্ত করা যায়।
নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, শিশুদের খাবারে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলাতেই খাদ্য পরীক্ষার বিশেষ গাড়ি সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সব যৌক্তিক সমস্যা দূর করে একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেনসহ চট্টগ্রামের খাদ্য বিভাগের অন্যান্য আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।









মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।